প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছয়টি আবাসিক হলে আংশিক কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) এই কমিটিগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সরকার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ আগামী এক বছরের জন্য এসব কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন।
হলভিত্তিক কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন যারা:
| হলের নাম | আহ্বায়ক | সদস্য সচিব |
| মাস্টারদা সূর্যসেন হল | সাকিবুল হাসান | মো. আরমানুল ইসলাম |
| বিজয় একাত্তর হল | আমিনুল ইসলাম | সর্দার তানভীর বিন নজরুল |
| সার্জেন্ট জহুরুল হক হল | আল মেহরাজ শাহরিয়ার মিথুন | নাজিমুদ্দিন সাইফ |
| হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল | সাইদুর রহমান শাহিদ | সাঈদ আফ্রিদী |
| মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল | শাহরিয়ার ইয়ামিন | মুশফিক হাসান |
| অমর একুশে হল | রুবায়েত হাসান রিমন | দিনাত হক |
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই ছয়টি হলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। নতুন এই নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং ক্যাম্পাসে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি চর্চায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির এই নতুন ধারা ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এক সুদীর্ঘ ইতিহাসের অংশ।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা (১৯০০-১৯২১): ১৯০০ সালের দিকে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে উচ্চশিক্ষার জন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রদের পর মুসলিম সম্প্রদায়ের দাবির মুখে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০০ সালের সেই অন্ধকার আমল থেকে ২০২৬ সালের এই প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস—পুরো যাত্রায় ছাত্ররাই ছিল সমাজের অগ্রসেনানী।
ভাষা আন্দোলন ও মহান স্বাধীনতা (১৯৫২-১৯৭১): ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো ছিল বিপ্লবের সূতিকাগার। সার্জেন্ট জহুরুল হক হল বা সূর্যসেন হলের মতো হলগুলোর নাম এই বীরত্বগাথারই অংশ।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ছাত্রশক্তির উত্থান: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। এই বিপ্লবের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে লেজুড়বৃত্তিহীন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকারভিত্তিক রাজনীতির যে চাহিদা তৈরি হয়েছে, ২০২৬ সালের এই ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র কমিটি গঠন সেই আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই পরাধীন আমল থেকে ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের রাজনীতি এখন অনেক বেশি সুসংগঠিত। ২০২৬ সালের মে মাসে এই ছয়টি হলে নতুন কমিটির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও মেধাভিত্তিক রাজনীতির এক নতুন বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
ইতিহাস সাক্ষী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিই জাতীয় রাজনীতির দিকনির্দেশনা দেয়। ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক আমল থেকে ২০২৬ সালের এই স্বাধীন বাংলাদেশে পৌঁছে ছাত্ররাজনীতির সংজ্ঞা ও ধরনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। জাতীয় ছাত্রশক্তির এই নতুন নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা, ডাইনিংয়ের খাবারের মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। ২০২৬ সালের মে মাসের এই কমিটি গঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: ১. জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রেস বিজ্ঞপ্তি (১৪ মে, ২০২৬)।
২. ঐতিহাসিক দলিল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ ও ছাত্ররাজনীতির ইতিহাস (১৯২১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |